খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার নেপথ্য: রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিশ্লেষণ

প্রতিবেদক • ঢাকা

প্রকাশ: Feb. 20, 2026, 3:40 p.m.

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলির দায়িত্ব বণ্টন করেছে। এর মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়টি অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. খলিলুর রহমানকে হেফাজত করা হয়েছে, যদিও তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন আর বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
মূলত অভিযোগ ও সমালোচনা দুটি দিক থেকে উঠে এসেছে:
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও সমালোচকরা বলেন, ড. খলিলুর রহমান আগে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন, এবং দলীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই তাকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে রাখা হয়েছে, যা দলীয় স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ কৌশলের ফল বলে রূপায়ণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিএনপি কর্তৃপক্ষের কিছু নেতার মতে, তার আপেক্ষিক পেশাদারিত্ব ও কূটনৈতিক দক্ষতা পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে একজন অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়োজন—এ কারণেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অনানুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান নিজের পক্ষে বলেন তিনি জোর করে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি এবং তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে যারা প্রশ্ন তুলেছেন তারা “হিসাব মিলিয়ে দেখতে পারেন।” তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বজায় রাখা হবে, এবং কোনো প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের চেয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে।
বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এই নিয়োগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশটি সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতা পার করে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়োগকে রাজনৈতিক যুক্তি ও পেশাদার দক্ষতার সমন্বয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যদিও বিরোধী শিবিরের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।


আরও পড়ুন