প্রতিবেদক • ঢাকা
প্রকাশ: Feb. 24, 2026, 5:36 p.m.
২০০৯ সালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ৫০ বছর বয়সী প্রায় ৫৫ একর কৃষিজমি ভরাট করে তৈরি করা এই ল্যান্ডফিলটি পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে এখন এক একটি বড় “বর্জ্যের পাহাড়” প্রশ্নে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন কঠিন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ২০১৭ সালেই এর ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং অর্ধশত ফুট উঁচু বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্জ্যের স্তূপে বাজ পড়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগুন জ্বলে ওঠে এবং বিষাক্ত ধোঁয়া ও কুণ্ডলী আশ-পাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও পথচারীর ওপর ছড়িয়ে পড়ে। পোড়া প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যের দহন থেকে বের হওয়া ধোঁয়া নাক কাঁপানো দুর্গন্ধ ছড়ায়, আর তা দীর্ঘক্ষণে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। এতে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যের সমস্যায় স্থানীয়রা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বলিয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, “ধোঁয়ার জন্য চোখ লাল হয়ে গেছে; বাসার আশেপাশে গন্ধের কারণে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখানে আর কেউ ঠিকভাবে জীবন যাপন করতে পারছে না।” তিনি আরও জানান, বর্জ্যের বিষাক্ততার কারণে আগে মাছ ধরা, কৃষিকাজ করা সবটাই বন্ধ হয়ে গেছে এবং বহু পরিবার বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বা প্রতিবেশী অঞ্চলে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ময়লার স্তূপের নিচে জমা পড়া লিচেট (বর্জ্যনিঃসৃত বিষাক্ত তরল) ভূগর্ভস্থ পানি ও কৃষিজমিকে দূষিত করছে, যা কিংবা ফলন ও ভবিষ্যতের খাদ্য সরবরাহে মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। মিথেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস নিয়মিত বর্জ্য পোড়ানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে মিলছে, যা দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদ্বেগ তোলা হচ্ছে।
পরিবেশসম্মত ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, এবং এলাকাবাসী ও পরিবেশ সংগঠনগুলো সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে যাতে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষিজমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
1 month
1 month
1 month
1 month
1 month